রকেট কিভাবে চলে ?
বিখ্যাত বিজ্ঞানী নিউটন গতির মৌলিক নীতি গুলোকে সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এই সূত্র সমূহ গতি বিষয়ক সূত্র নামে পরিচিত।।
নিউটনের সূত্র সমূহ এর মধ্যে তৃতীয় সূত্রটি কাজে লাগিয়ে রকেট চালনা করা হয়।
নিউটনের তৃতীয় সূত্র টি হচ্ছে, প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে অর্থাৎ ক্রিয়া বল এবং প্রতিক্রিয়া বলের মান সমান কিন্তু এদের দিক পরস্পর বিপরীত মুখী।
নিউটনের তৃতীয় সূত্রটি ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র নামেও পরিচিত।
রকেটের জ্বালানি হিসাবে তরল গ্যাসোলিন ও তরল অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়। এই উপাদান গুলো দহন কক্ষে পাম্পের সাহায্যে প্রবেশ করিয়ে জ্বালানো হয়। মিশ্রণ টি জ্বালানোর ফলে অতি উচ্চ চাপে গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই উৎপন্ন গ্যাস রকেটের নিচের দিকের মুখ দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বের হতে শুরু করে। তখন নিউটনের তৃতীয় সূত্রানুসারে প্রতিক্রিয়া বলের কারণে গ্যাস নির্গমনের বিপরীত দিকে রকেট একটি ভরবেগ লাভ করে। ফলে রকেটের উপর একটা উর্ধ্বমুখী বলের সৃষ্টি হয় এবং রকেট সম্মুখ দিকে দ্রুততার সাথে অগ্রসর হতে থাকে।।
চলন্ত গাড়ি থেকে নামা বিপদজনক কেন ?
আমরা প্রায়ই চলন্ত বাস থেকে মানুষ কে নামতে দেখি। নামার সাথে সাথে কিছুটা সামনের দিখে দৌড়াতে দেখি। অনেক সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে অনেকে রাস্তায় পড়ে যায়। চলন্ত গাড়ি থেকে নামা খুবই বিপদজনক। এই বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রধান কারণ গতি জড়তা। গতি জড়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে আমরা বিষয় টা বুঝতে পারবো তাই জড়তা কী? গতিজড়তা কি? সেই সম্পর্কে একটু ধারণা নেই।
বিজ্ঞানী নিউটনের গতি বিষয়ক প্রথম সূত্র থেকে আমরা জানতে পারি, বাহ্যিক কোনো বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু স্থির থাকবে এবং গতিশীল বস্তু সুষম দ্রুতিতে সরল পথে চলতে থাকবে।
এই সূত্রানুসারে প্রত্যেক বস্তু যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থাকতে চায়। পদার্থের এই ধর্মকে জড়তা বলে।
গতিজড়তা কাকে বলে ?
গতিশীল বস্তু গতিশীল অবস্থায় থাকার প্রবণতা কে গতিজড়তা বলে। কোনো যাত্রী চলন্ত গাড়ি থেকে নামার সময় যাত্রীর দেহে গতিজড়তা থাকে। মাটিতে পা দেওয়ার পর স্থির হতে চাইলে দেহের নিচের অংশ স্থির হলেও উপরের অংশ গতিশীল থাকে ফলে যাত্রী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এই কারণে বিপদজনক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ বন্ধ করার সাথে সাথে থেমে যায় না কেন ?
আমরা বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ বন্ধ করার পরেও কিছু সময় পাখাকে ঘুরতে দেখা যায় । আমরা ইত্যি মধ্যে জড়তা ও গতিজড়তা সম্পর্কে জেনেছি।
বৈদ্যুতিক পাখার সুইচ অফ করার পরেও কিছু সময় পাখা ঘুরতে থাকে গতি জড়তার কারণে। বৈদ্যুতিক পাখা ঘুর্ণনের ফলে গতি জড়তা সৃষ্টি হয়। সুইচ অফ করার পরেও গতিশীল ফ্যানটি এর গতি বজায় রাখার প্রবনতা দেখায়। ফলে কিছু সময় ঘোরে এবং বায়ুর বাধা ও ফ্যানের শ্যাফটের ঘর্ষণের ফলে ধীরে ধীরে থেমে যায়।
বোতলের ছিপিতে খাঁজ কাটা থাকে কেন ?
বোতল ও ছিপির মধ্যবর্তী ঘর্ষণ বৃদ্ধি করার জন্য বোতলের ছিপিতে খাঁজ কাটা থাকে। ছিপি দিয়ে বোতলের মুখ বন্ধ করলে খাঁজ গুলো বোতল কে দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে ধরে। ফলে সহজে খুলে পড়ে যায় না। সুতরাং ঘর্ষণ বল বৃদ্ধির মাধ্যমে ছিপি দ্বারা বোতলের মুখ কে শক্তভাবে বন্ধ করার জন্য বোতলের ছিপিতে খাঁজ কাটা থাকে।।
