কারক ও বিভক্তি বিস্তারিত তথ্য ও মনে রাখার উপায়

 ♦️ বিভক্তি  ♦️

 সাধারণ বিভক্তি বলতে বিভাগ / বিভাজন কে বোঝায়। কিন্তু  বাংলা ব্যাকরণের ভাষায় বিভক্তি বলতে পুরুষ, কারক, বচন ,কাল প্রভৃতি সূচক প্রত্যয়কে বোঝায়।

বিভক্তির সংগা : বাক্যে ব্যবহৃত পদ গুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য  যে সব অর্থহীন বর্ণ বা বর্ণ সমষ্টি শব্দের শেষে যুক্ত হয়, সেই বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি কে বিভক্তি বলে।

বিভক্তির উদাহরণ : ছেলেরা পড়ে।  এখানে "ছেলে" শব্দের সাথে "রা" যুক্ত হয়ে "ছেলেরা" পদ তৈরি হয়েছে।  এখানে "রা" বিভক্তি।

বিভক্তির প্রকারভেদ :  বিভক্তি সাধারণত দুই প্রকার।  যথাঃ ১. শব্দ বিভক্তি    ২. ক্রিয়া বিভক্তি।  শব্দ বিভক্তি :   যে বিভক্তি বিশেষ্য ও সর্বনামের সাথে যুক্ত হয়ে বাক্যের অন্যান্য পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে তাকে শব্দ বিভক্তি বলে।  উদাহরণঃ বন্ধুর ভালোবাসা।  এখানে " বন্ধু " শব্দের সাথে "র" যুক্ত হয়েছে। "র" শব্দ বিভক্তি। 

বিভক্তির বৈচিত্রের প্রেক্ষিতে বিভক্তি কে সাত ভাগে ভাগ করা যায়।  যথাঃ প্রথমা বা শূন্য,  দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী,  পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী বিভক্তি।  বিভক্তির একবচন ও বহুবচন একটি ছকে নিন্মে দেওয়া হলো

 ক্রিয়া বিভক্তি :  যে বিভক্তি ক্রিয়া / ধাতুর পরে যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠন করে তাকে ক্রিয়া বিভক্তি বলে। উদাহরণঃ শুভ্র কাজটি করবে। করবে ক্রিয়ায় "কর" এর সাথে "বে" যুক্ত হয়েছে।  এখানে " বে " ক্রিয়া বিভক্তি। 
কারক
 কারক কাকে বলে?
কৃ + ণক = কারক। কারক শব্দের অর্থ যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
কারকের সংগা : বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
কারকের প্রকারভেদ  : 
বাংলায় কারক ৬ প্রকার। যথাঃ 
১। কর্তৃ কারক      ২।  কর্ম কারক     ৩। করণ কারক        ৪। সম্প্রদান কারক    ৫। অপাদান কারক।       ৬। অধিকরণ কারক। 
কর্তৃ কারক 
⚫  কর্তৃ কারক কাকে বলে?
যে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদিত হয়,  তাকে কর্তৃ কারক বলে.।
▪️ কর্তৃ কারকের উদাহরণ :  আমরা বই পড়ি।  এখানে "আমরা" কর্তৃ কারক।
⚫ ক্রিয়াকে কে,  বা কারা দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই কর্তৃ কারক। 
▪️ কর্তৃ কারকে সাধারণত প্রথমা ( শূন্য)  বিভক্তি হয়। 
কর্তৃকারকের প্রকারভেদ
বাক্যের ক্রিয়া সম্পাদনের বৈচিত্র্য এবং বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্তৃকারক চার প্রকার। যথাঃ 
১.  মুখ্যকর্তা  : কর্তা নিজেই ক্রিয়া সম্পাদন করলে তাকে মূখ্য কর্তা বলে। উদাহরণঃ সেতু  বই পড়ে। 
২. প্রযোজক কর্তা :  যে কর্তা অন্যকে দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করায়,  তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।  প্রযোজক কর্তার উদাহরণ : মা শিশু টিকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।  এখানে মা প্রযোজক কর্তা। 
 ৩.  প্রযোজ্য কর্তা : প্রযোজক কর্তা যাকে দিয়ে ক্রিয়া সম্পাদন করান তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।  প্রযোজ্য কর্তার উদাহরণ : শিক্ষক ছাত্র কে পড়াচ্ছেন। এখানে শিক্ষক  প্রযোজক কর্তা আর ছাত্র প্রযোজ্য কর্তা।  পড়া কাজ টা ছাত্র করছে তাই ছাত্র প্রযোজ্য কর্তা। 
৪। ব্যতিহার কর্তা : বাক্যে দুইটা কর্তা একত্রে এক জাতীয় ক্রিয়া সম্পাদন করলে,  এদের কে ব্যতিহার কর্তা বলে। ব্যতিহার কর্তার উদাহরণ : বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়।
কর্তৃকারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার 
১. প্রথমা বিভক্তি : রাহুল বই পড়ে। ছেলেরা ফুটবল খেলে।
২. দ্বিতীয়া বিভক্তি : পার্থকে  খুলনা যেতে হবে। 
৩. তৃতীয়া বিভক্তি : তোমাকে দিয়ে একাজ সম্ভব না।
৪. চতুর্থী বিভক্তি  : রাজুকে ভিক্ষা লওয়া মানাইবে না।
৫. পঞ্চমী বিভক্তি : আমা হতে একাজ হবে না।
৬. ষষ্ঠী বিভক্তি : আমার যাওয়া হবে না।
৭. সপ্তমী বিভক্তি : বুলবুলিতে ধান খেয়েছে। 

 কর্ম কারক 
▪️কর্ম কারক কাকে বলে?
কর্তা যাকে আশ্রয় করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।  সহজ ভাষায় বলা যায় কর্তা যা করে তাকেই কর্ম কারক বলে। 
কর্ম কারকের উদাহরণ :  আমি বই পড়ি।
কর্ম দুই প্রকার।  যথা : মূখ্যকর্ম ও সমধাতুজ কর্ম।
▪️ মূখ্য কর্ম কাকে বলে?
বাক্যের দুইটি কর্মের মধ্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে যার মূখ্য সম্পর্ক থাকে।  তাকে মূখ্য কর্ম বলে।
মা শিশু টিকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। এখানে চাঁদ মূখ্য কর্ম। 
▪️সমধাতুজ কর্ম কাকে বলে? 
উত্তরঃ ক্রিয়া ও কর্ম একই ধাতু থেকে উৎপত্তি হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে। যেমন: কি  কাঁদাই না কাদল।
▪️ ক্রিয়া কে কি / কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় ,  তাই কর্ম কারক। 

▪️ কর্ম কারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার ▪️
১। প্রথমা বিভক্তি : রজনীকান্ত বই  পড়ে।
২। দ্বিতীয়া বিভক্তি : ধোপাকে কাপড় দেও।
৩। চতুর্থী বিভক্তি : গরীবকে দান কর।
৪। পঞ্চমী বিভক্তি : বাহির হতে আকাশ দেখা যায়। 
৫। ষষ্ঠী বিভক্তি : তার এত উপকার করেও তার দেখা পেলাম না।
৬। সপ্তমী বিভক্তি : পুলিশে খবর দেও।  
▪️ করণ কারক ▪️
করণ কারক কাকে বলে? 
▪️ করণ শব্দের অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। অর্থাৎ কর্তা যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ কারক বলে। 
করণ কারকের উদাহরণ : জেলেরা জাল দ্বারা মাছ ধরে।
▪️ বাক্যের ক্রিয়াকে কি দিয়ে ,  কি দ্বারা, কি কর্তৃক,  কিসের সাহায্যে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই করণ কারক। 
▪️করণ কারকে  সাধারণত তৃতীয়া বিভক্তি হয়।
করণ কারকের বিভিন্ন বিভক্তির উদাহরণ 
 ১।  প্রথমা বিভক্তি  : তাস খেলার ফলে পড়াশোনার সময় নষ্ট হয়।
২। তৃতীয়া বিভক্তি :আমরা ছুরি দিয়ে ফল কাটি।
৩।  পঞ্চমী বিভক্তি : কন্যা হতে পিতার মুখ উজ্জ্বল হবে।
৪। ষষ্ঠী বিভক্তি : শিক্ষক ছাত্রকে বেতের ঘা মারলেন।
৫। সপ্তমী বিভক্তি :  টাকায় কি না হয়।
 ▪️সম্প্রদান কারক ▪️
 সম্প্রদান কারক কাকে বলে?
উত্তর : স্বত্বত্যাগ করে  কোনো কিছু দান করলে বা সাহায্য করলে তাকে সম্প্রদান কারক বলে। 
সম্প্রদান কারকের উদাহরণ : গরীব দুঃখীকে  দয়া করো।
▪️ক্রিয়া কে কাকে প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই সম্প্রদান কারক। 
▪️সম্প্রদান কারকে সাধারণত চতুর্থী বিভক্তি হয়।
সম্প্রদান কারকে বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার 
 ১। প্রথমা বিভক্তি : কাঙাল  ভোজ পুন্যের কাজ।
২। চতুর্থী বিভক্তি : অসহায় কে সাহায্য করো।
৪। ষষ্ঠী বিভক্তি : স্বদেশের   জন্য কাজ করো।
৫। সপ্তমী বিভক্তি : সৎপাত্রে কন্যা দান করো।
▪️ অপাদান কারক ▪️
▪️ অপাদান কারক কাকে বলে?
উত্তর : যার মাধ্যমে ক্রিয়া প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ  যা থেকে কোনো বস্তু চলিত,  ভীত,  গৃহীত,  উৎপন্ন, রক্ষিত ও আরম্ভ হয় তাকে অপাদান কারক বলে। 
অপাদান কারকের উদাহরণ : তিল হতে তেল হয়।
▪️বাক্যের ক্রিয়া কে " কি হতে ", কোথা হতে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে তাই অপাদান কারক। 
▪️অপাদান কারকে সাধারণত পঞ্চমী বিভক্তি হয়।
▪️ অপাদান কারকের বিভিন্ন বিভক্তির ব্যবহার 
১। প্রথমা বিভক্তি : সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল 10 টায় খুলনা ছাড়ে।
২। দ্বিতীয়া বিভক্তি : বাঘকে সবাই ভয় পায়।
৩। তৃতীয়া বিভক্তি : সাগরের কান দিয়ে পুজ পড়ে।
৪। পঞ্চমী বিভক্তি : বিপদ হতে সামীম কে রক্ষা করো।
৫। ষষ্ঠী বিভক্তি : যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।
৬। সপ্তমী বিভক্তি : সাদা মেঘে  বৃষ্টি হয় না।
 ▪️অধিকরণ কারক ▪️
 ▪️ অধিকরণ কারক কাকে বলে? 
উত্তর : যে স্থানে বা যে সময়ে ক্রিয়া দিত হয় তাকে অধিকরণ কারক বলে। 
অধিকরণ কারকের উদাহরণ  : সকালে সূর্য উঠে। 
এখানে সকালে অধিকার কারক।
▪️ক্রিয়া কে "কোন সময়"বা  "কোথায় প্রশ্ন করে যে উত্তর পাওয়া যায় তাই অধিকরণ কারক। 
▪️অধিকরণ কারকে সাধারণত সপ্তমী বিভক্তি যুক্ত থাকে।
অধিকরণ কারকের প্রকারভেদ 
 অধিকরণ কারকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথাঃ ১. কালাধিকরণ ২. ভাবাধিকরণ ৩.আধারাধিকরণ।
কালাধিকরণ কাকে বলে ? 
উত্তরঃ যে সময়ে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেই সময় কে কালাধিকরণ বলে। যেমন : শরৎকালে সাদা মেঘের ভেলা দেখা যায়।
▪️ভাবাধিকরণ কাকে বলে ? 
উত্তর  : যে বিষয়ে ক্রিয়া ক্রিয়া সম্পন্ন হয়,  তাকে  ভাবাধিকরণ বলে।
উদাহরণ : কান্নায় শোক মন্দীভূত হয়।
▪️ আধারাধিকরণ : যে জায়গায় বা যে স্থানে ক্রিয়া সম্পন্ন হয় সেই স্থান কে আধারাধিকরণ বলে। উদাহরণ : আকাশে রঙধনু দেখা যাচ্ছে।
অধিকরণ কারকে বিভিন্ন বিভক্তির উদাহরণ 
১. প্রথমা বিভক্তি : শুক্রবার আমরা মার্কেটে যাবো।
২. দ্বিতীয়া বিভক্তি : আজিকে স্কুলে যাবো না।
৩। তৃতীয়া বিভক্তি : রাস্তা দিয়ে চলো।
৪। পঞ্চমী বিভক্তি : বাড়ি থেকে খেলার মাঠ দেখা যায়।
৫। সপ্তমী বিভক্তি : রফিক সাহেব বাড়িতে নেই।



Arup

hi, I am ARUP SARDAR. I am a student at university of Barishal. My Department is Geology and Mining.

Post a Comment

Previous Post Next Post