ধোকা
লেখক:ইন্দ্রনীল রায়।
একটা ছেলে আর একটা মেয়ের মধ্যে যে মিষ্টি সম্পর্কের জন্ম হয় তাকে প্রেম বলে।
সত্যিতো একেই প্রেম বলে.....
নাকি ধোকা,নাকি প্রতারণা ,নাকি.....
অন্তত আমার জন্য তো ধোকা আর ভালবাসা দুটোই এক।
.
আজ বুকে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে কেন হচ্ছে জানি না।ও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে তাই নাকি কেন গেছে সেটা জানতে পারি নাই তাই।তবে এই তিনটা বছরে বুকটা জ্বলে জ্বলে কয়লা হয়ে গেছে তাই যন্ত্রণাটা আর এখন যন্ত্রণা লাগে না।এই তিনটা বছর জীবন থেকে অনেক কিছু শিখেছি।তবে দুই দিনের এই জীবনে অনেক প্রশ্নের উত্তরই জানতে পারিনি।তবে একটা প্রশ্নের উত্তর আজ জানতে খুব ইচ্ছা করে "সবই কি অভিনয় ছিল।"
.
২০১৩......
আমরা পাঁচ বন্ধু ছিলাম।তুহিন,শোভন,মিন্টু,সমিরন আর আমি নীল।
আর দশটা বন্ধুত্ব থেকে আমাদের বন্ধুত্ব অনেক গভীর ছিল।আর হয়তো জীবনটা এভাবেই কেটে যেতো।কিন্তু জীবন কাটাতে কে চায়।সব গল্পেই কিছু মোড় লাগে যেখানে সব কিছু ভেঙ্গে যাবে।আর এই গল্পের সেই মোড় ছিল লিপিকা।
সাপ্তাহিক বাজারে ঘুরছিলাম আমরা।হঠ্যাৎ একটা মেয়েকে দেখে আমার চোখ স্থির হয়ে গেল।সমিরনকে বললাম দেখতো মেয়েটা সুন্দর তাই না!
সমিরন: পছন্দ হয়,প্রেম করবি।
নীল: ইচ্ছাতো করে কিন্তু কি করে, চিনি না তো।আর কথাও বলবো কি করে।তুই কি চিনিস...?
সমিরন :-আরে বলদ।তুই যে মিন্টুর gf চিনিস না আগে জানতাম না তো।
আমি সমিরনের কথায় মন না দিয়ে ওকে আরো কাছ থেকে দেখতে লাগলাম।হঠ্যাৎ ওর কথা কানে আসতে অপ্রস্তুত হয়ে বললাম:-বলিস না যেনো।কি মনে করবে বেচারা।
.
আসলে বন্ধু হয়তো একে বলে।কিছু দিন পরে দেখি খাতায় বড় করে লেখা "লিপিকা"আর সবাই বন্ধুরা আমাকে আজে বাজে কথা বলতে লাগলো।আমার বিষয়টা ভাল লাগে নাই।আমি ম্যাডামকে জানালাম।আর কেন জানিনা তখন আমার দলে আর দুইটা লোক যুক্ত হলো মিতা আর তৃণা।তাদের চিনিনা জানিনা কিন্তু তাদের কথা আমার কথাকে আরে শক্ত করছিল এটা বুঝলাম।
আর তার সাথেই বন্ধুত্বের গল্প শেষ।আর শত্রুতা শুরু।আর বন্ধুত্বের গল্প হয়ে গেল অ্যাকশান গল্প।মারামারির মধ্যে দিয়ে গল্প শেষ।
........
৫ দিন পর।
শোভন:- ওই করিস কি
নীল:- খুব কি দরকার ছিল এই শত্রুতার।
শোভন:-বাদ দিবি।লাইফটা বদলা।
নীল :- কি করে
শোভন:- প্রেম করবি।
নীল:-ভাল মেয়ে নাইরে যাকে বিশ্বাস করা যায়।
শোভন:-আছে একজন।
নীল:-কে
শোভন:- লিপিকা
নীল ধিরে ধিরে শোভনের দিকে ফিরে তাকাল
নীলঃ দেখ এখন মজা করার মুড নাই।
শোভন:- সত্যি বলছি।
নীল:- কিন্তু লিপিকাতো মিন্টুকে পছন্দ করে।
শোভন:- তুই সব আমার উপর ছেড়ে দে।
............
সেদিন আমার মনে ভালবাসা আসে নাই।ছিল বন্ধুত্ব হারানোর কষ্ট।আসলে তখনো ওই ভাবে ভালবাসাকে উপলব্ধি করতে পারি নাই।
কয়েক দিন পর শোভন এসে বলল"লিপিকা রাজি।"
নীল:- কিন্তু কথা বলবো কি করে।আমার তো ফোন নাই।
শোভন:-চিঠি।
নীল:- আমি আর চিঠি,কি লিখবো সেটাই তো জানি না
শোভন:- কেন কবিতা তো ভালই লিখিস।আর এটা পারবি না।
.
কি লিখবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না।শেষে ভাবলাম কবিতা লিখবো আর সেদিন বুঝলাম কেন কবিরা প্রেম করে।এতোদিন কোন প্রেমের কবিতা লিখতে পারতাম না।আর সেই মুহূর্তে আমার কি হয়েছিল কি জানি।তবে প্রথম সেদিন আমি মনের মত প্রেমের কবিতা লিখেছিলাম।
আর সেটা দিতে গিয়ে যা হয়েছিল তার গল্প নাই বা বললাম।তবে তার উত্তর পেয়ে আমার মন যে কেমন করেছিল সেটা আমার মনই জানে।আজও সে কথা মনে পড়লে মন কেমন জানি করে।
কোথায় পড়বো ঠিক করে পাচ্ছিলাম না।কে দেখে ফেলে।শেষে বাথরুমে নিয়ে খুললাম।দেখলাম আমার চিঠির ফাকে কিছু কিছু লেখা।আমি পড়লাম,পড়লাম,পড়লাম,কিন্তু মন ভরলো না।মনে হলো এত কম কেন।
প্রেমের এই অনুভূতি সেই জানে যে প্রথম প্রেমে পড়েছে।
আমাদের এই পবিত্র ভালবাসা এই ভাবেই চলছিল।মাস পেরিয়ে বছর..........
কিন্তু হঠ্যাৎ মিন্টুর একটা কথায় বেধে আমি পড়ে গেলাম.......
মিন্টু :- যা করছিস ভাল করছিস।কিন্তু আমার মত ঠকে যাস না যেন........
মিন্টুর এমন কথায় আমার মনের কোনো এক কোনে কোথায় যেন ভয় চলে এলো....সেটা আসলে কিসের ভয় আমি তারই অনুসন্ধান করতে লাগলাম
ভোর ৫টা।মিন্টুর ফোন বেজে ওঠে।
-হাই সোনা কি করো।
-ঘুমাচ্ছি তো।
-না এখন তুমি ঘুমাতে পারবা না।এখন আমার সাথে কথা বলবা
-রাত ৪টা পর্যন্ত কথা বললাম তো।
-তাহলে আমি ফোন কেটে দেই
-রাগ করো কেন সোনা।আচ্ছা বলো কি বলবা
-স্কুলে আসছো তো।
-না।আজ আমাদের বাড়ির পাশে অনুষ্ঠান আছে রাতে
-কই আমাকে দাওয়াত দিলা না তো।
- বললে আসবে....
- বলেই দেখো।
.
রাতে ওরা দুইজন একসাথে বসে অনুষ্ঠান দেখছিল।
-মিন্টু চলো না একটু বাইরে থেকে হেটে আসি।এখানে অনেক লোকের ভিড়।ভাল লাগছে না।
ওরা দুরে নিরিবিলি মাঠে গিয়ে বসলো।লিপিকা মিন্টুর কাধে মাথা রেখে আকাশ দেখতে লাগলো।
-মিন্টু আমাকে কোনোদিন ছেড়ে যাবে নাতো।
-দেহ কি আত্মা ছেড়ে বাচতে পারে বলো
লিপিকা মিন্টুকে জড়িয়ে ধরলো।তারপর..
..
-থামো থামো লিপিকাকে নিয়ে আর একটা বাজে কথা বলবে না।
-কেন খারাপ লাগছে
-লিপিকা এমন না।
-বিশ্বাসের সাথে বলতে পারো।আর তোমার সাথে এমন কিছু হয়েছে কিনা সেটা তো তুমি ভালো জানো।
-হ্যা কিন্তু লিপিকা আমাকে ভালবাসে আর আমি ওকে।
-ভালবাসার কথায় মনে এলো।ওর বাসার পাশে এর আর একটা প্রেমিক আছে।আর একটা গোপন কথা কি জানো সেই প্রেমিকের ঘরে লিপিকাকে অনেক সময় দেখা যায়।হয়তো তুমিও ওকে ওই ঘরে দেখেছো।কিন্তু এক বাড়ির মানুষ তাই কিছু ভাবো নাই।পুকুর পাড়ের ওই ঘর।
-হ্যা কিন্তু,তুমি এতকিছু কি করে জানো।
-কারন আমিও বাকি সবার মত লিপিকার মিথ্যা প্রেমের শিকার।আরও আছে চিন্ময়,তূর্য,মিঠুন,উজ্জ্বল আরও কত নাম না জানা ছেলে।
-কিন্তু তুমি এগুলো আমাকে কেন বললে।
ছেলেটা একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।
আর আমার মাথায় হাজার প্রশ্নের উত্তর অসমাপ্ত রেখে গেলো।
.
যা বললো সব কি সত্যি!
লিপিকা এমন কেন করবে...
ছেলেটা মিথ্যা কেন বলবে???
কিন্তু লিপিকা আমাকে ভালবাসে।
মিন্টু তবে কি আমাকে এই কথা বলতে চাইছিল!!
কিন্তু..কিন্তু..
লিপিকাকে এসব কথা কিছুই বলিনি।এমন ব্যাবহার করলাম যেনো কিছুই হয়নি।
আমি সব কিছু খোঁজ নিতে শুরু করলাম।খোঁজ নিতাম আর মনে মনে ভাবতাম এসব যেনো ভুল হয়।কিন্তু দিন শেষে সব কথাগুলো সত্যি প্রমাণ হয়ে গেলো।
.
তারপর ও মন কেনো জানি মানছিলো না।কিছুতেই লিপিকাকে ভুলতে পারছিলাম না।শেষে নিজেই নিজের আইন তৈরি করলাম,যে সবাইকে একটা সুযোগ দেয়া উচিত।এটাও তো হতে পারে যে সে বদলে গেছে।
.
মনটাকে শান্ত করলাম।আর আগের মত হওয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম।কিন্তু শান্ত জীবন হয়তো আমার জন্য নয়।
.
হঠ্যাৎ কিছুদিন দেখি লিপিকা ফোন দিচ্ছে না।তাই মিতাকে ফোন দিলাম।ফোন দিতেই তো আমি হতবাক।একঝুড়ি গালি যেনো মিতা আমার উপর জোর করে ঢালতে লাগলো।নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললাম -কি হয়েছে.........????
প্রতি উত্তরে যে সব বাজে কথা আমাকে শুনতে হলো তা আর মুখ ফুটে নাইবা বললাম।
কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারলাম না যে আমার দোষটা কি? তারপর........
.
লিপিকার সাথে একটা শেষ বোঝাপোড়ার দরকার ছিলো।একবার সুযোগও হয়েছিলো ফোনে....
- আমার অপরাধটা কি ছিলো???
-তোমার কোনো দোষ নাই,
-তবে.....
-তুমি অনেক ভালো।তোমার সাথে আমার যায়না,তুমি আমার থেকে অনেক ভালো মেয়ে পেয়ে যাবে
- আমি ভালো খারাপ বুঝিনা,আমার তোমাকে চাই।আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসি,আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না।প্লিজ এমন করো না।
- ভালো থেকো...
- শোনো,শোনো.... ফোনটা রেখোনা। আমি মরে যাবো।তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।
- জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।
- আচ্ছা আমার ভুলটা তো বলো!!আচ্ছা আমার যে ভুলই হোক আমি সরি,আমাকে বলো আমি শুধরে নিবো।আমাকে ছেড়ে যেও না।
- তোমার কোনো ভুল নেই।
-তবে তুমি.........................
হাল্কা একটা কান্নার শব্দে ফোন কেটে গেলে।আর আমার অন্তরটা যেনো হাহাকার করে উঠলো।আমি চোখটা বন্ধ করতে চোখের কোনা দিয়ে একটুকরো জল মাটিতে পড়তে পড়তে ৩ বছরের প্রেমের ছবিটা আর একবার সামনে ভেসে এলো।আর চোখ খুলতেই............
.
এতো গুলো বছর কেটে গেছে... আজ লিপিকার জন্য মন কাদার আর একটা কারন হলো বাড়ি যাচ্ছি।কিছু অসমাপ্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে।এই কয় বছরে লিপিকার তেমন বিশেষ কোনো খোঁজ করিনি।ওর থেকে দূরে থাকলে ভুলতে সুবিধা হবে এজন্য বাইরে থেকে পড়াশোনা করছি।কিন্তু গল্পটা এভাবে শেষ হচ্ছিলো না।লিপিকা আমার মনের কোথাও না কোথাও থেকে যাচ্ছিলো।কিছু নাম না জানা প্রশ্ন আমাকে প্রতি রাত ঘুমাতে দিতো না।তার খোজেই বাড়ি ফিরছি।মিতার সাথে কথা হয়েছে,হয়তো ওর কাছে পড়ে আছে আমার কিছু নাম না জানা প্রশ্নের উত্তর......