আমাদের কাছে পৃথিবীর পৃষ্ঠ সমতল মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে পৃথিবী অভিগত গোলক। পৃথিবী দেখতে অনেকটা কমলা লেবুর মত। পৃথিবীর যে পৃষ্ঠে সূর্যের আলো পড়ে সেই পৃষ্ঠে দিন এবং অপর পৃষ্ঠে রাত হয়ে থাকে। অর্থাৎ একই সময় পৃথিবীর কোন স্থানে দিন আবার কোনো স্থানে রাত আবার কোথাও সকাল, কোথাও বিকাল হয়ে থাকে। নিজ মেরুরেখার উপর পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তিত হচ্ছে। তাই জন্য পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থান গুলোতে আগে সূর্যোদয় হয়।
১৮০ ডিগ্রী দ্রাঘিমা রেখাকে অবলম্বন করে সম্পুর্ন ভাবে জলভাগের উপর দিয়ে উত্তর- দক্ষিণে প্রসারিত একটা রেখা কল্পনা করা হয়। এই কল্পিত রেখা টি কে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলে।
এই রেখা টি অতিক্রম করলে তারিখ ও বারের পরিবর্তন হয়। সহজ ভাষায়, যে রেখা অতিক্রম করলে তারিখ ও বারের পরিবর্তন হয় তাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলা হয়। এই আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা টি অন্যান্য কাল্পনিক রেখার মত সোজা নয়। কিছু সমস্যা এড়ানোর জন্য এই রেখা টি আঁকাবাঁকা হয়ে থাকে। এই রেখাটি প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। এটি সাইবেরিয়ার উত্তর- পূর্ব অংশ অ্যালিউসিয়ান, ফিজিও চ্যাথাম দীপপুঞ্জের উপর দিয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় লোকদের বারের হিসাবে অসুবিধা দূর করার জন্য রেখাটিকে বেরিং প্রণালীতে ১২° পূর্ব অ্যালিউসিয়ান দীপ পুঞ্জের কাছে ৭° পশ্চিম এবং ফিজি ও চ্যাথাম দীপপুঞ্জের কাছে ১১° পূর্ব দিকে বেকে জলভাগের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়েছে। গ্রিনিচ থেকে পূর্বগামী কোনো ব্যক্তি এই রেখা অতিক্রম করলে স্থানীয় সময়ের সাথে মিল রাখার জন্য তাদের বর্ধিত সময় থেকে এক দিন বিয়োগ করতে হয়। এবং পশ্চিম গামী কোনো ব্যক্তি তাদের কম সময়ের সাথে এক দিন যোগ করে তারিখ গননা করা হয়ে থাকে।
♦️স্থানীয় সময়ঃ
পৃথিবী আবর্তের ফলে কোনো স্থানে যখন সূর্য ঠিক মাথার উপরে আসে বা সর্বোচ্চে অবস্থান করে তখন এই স্থানে মধ্যাহ্ন এবং ঐ স্থানের ঘড়িতে তখন বেলা ১২ টা ধরা হয়। এই মধ্যাহ্ন সময় কে স্থির করে দিনের অন্যান্য সময় স্থির করা হয়। একে ঐ স্থানের স্থানীয় সময় বলা হয়। # সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে ও স্থানীয় সময় নির্ণয় করা যায়।
♦️ প্রমাণ সময়ঃ
প্রত্যেক দেশেই সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমা রেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয়, সেই সময় কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে। অনেক বৃহৎ আয়তনের দেশে একাধিক প্রমাণ সময় থাকে। যেমনঃঃ কানাডায় ৫টি প্রমাণ সময় আছে। গ্রিনিচের দ্রাঘিমা শুন্য ডিগ্রী ধরা হয়। কোনো স্থান গ্রিনিচের পূর্বে হলে তার স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা বেশি হবে। পশ্চিমে হলে স্থানীয় সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা কম হবে। যেহেতু ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত। সেহেতু বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘন্টা অগ্রবর্তী।
♦️দ্রাঘিমার মাধ্যমে সময় নির্ণয়ঃঃ
প্রশ্নঃ ঢাকা ও চেন্নাইয়ের দ্রাঘিমা যথাক্রমে ৯০° পূর্ব এবং ৮০°১৫' পূর্ব। ঢাকায় যখন ১১টা বাজে তখন চেন্নাইয়ের স্থানীয় সময় কত হবে?
উত্তরঃ নিজ অক্ষরেখায় পৃথিবীর একবার আবর্তন করতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা।
১ ঘন্টা = ৬০ মিনিট
২৪ ঘন্টা = (৬০×২৪) মিনিট = ১৪৪০ মিনিট
আবার,
৩৬০° ঘোরে ১৪৪০ মিনিটে
১° ঘোরে = (১৪৪০÷৩৬০) মিনিটে
= ৪ মিনিটে।
সুতরাং, ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যর জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট।
অনুরূপভাবে, ১' দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ সেকেন্ড।
ঢাকা ও চেন্নাইয়ের দ্রাঘিমার পার্থক্য ( ৯০°- ৮০°১৫') = ৯°৪৫'
৯° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ( ৯×৪) মিনিট। বা, ৩৬ মিনিট।
৪৫' দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ( ৪৫×৪) সেকেন্ড = ১৮০সেকেন্ড বা ৩ মিনিট।
৯°৪৫' দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ( ৩৬+৩) মিনিট = ৩৯মিনিট।
চেন্নাইয়ের স্থানীয় সময় হবে, ১১ টা - ৩৯ মিনিট।
= ১০টা ২১ মিনিট
♦️ সময়ের পার্থক্য থেকে দ্রাঘিমা নির্ণয়ঃ
প্রশ্নঃ ঢাকা ও সিউলের সময়ের ব্যবধান ২ ঘন্টা ৩২ মিনিট। ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব হলে সিউলের দ্রাঘিমা কত? ( সিউল ঢাকার পূর্বে অবস্থিত)
সমাধানঃ
ঢাকা ও সিউলের সময়ের ব্যবধান ২ ঘন্টা ৩২ মিনিট = ( ২×৬০+ ৩২) মিনিট। = ১৫২ মিনিট।
৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয় ১° এর জন্য
১ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয় (১÷৪)° এর জন্য
১৫২ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়{( ১×১৫২)÷৪}° এর জন্য
= ৩৮° এর জন্য।
সিউল ঢাকার পূর্বে অবস্থিত হওয়ায় দ্রাঘিমা বেশি হবে।
•°•সিউলের দ্রাঘিমা (৯০°+৩৮°) পূর্ব
= ১২৮° পূর্ব।
